
ঋতিল মনীষা
সবচেয়ে আকর্ষণীয় চিঠিটি লিখতে চেয়েছিলাম তোমাকে
সংশয়হীন আপোষে, মধুর নীরব বিরহে।
সাদা কবুতরের বুকের পালকের পৃষ্ঠায়
চেয়েছিলাম রক্ত দিয়ে লিখি অক্ষরের উন্মুক্ত
অভিলাষ, নতজানু অব্যক্ত কথায়।
পোড়াকপালে চিঠির কথা ভেবে
সম্মানের টিকা নিয়ে ঘুরি।
যারা জানুক, জানুক তারা—
আমারও কল্পনায় ভাগ্য খুলে।
আমিও পটের বিবি অদেখা রাজত্বে,
শকুন্তলার চিঠিও পড়বে এমন চিঠির প্রেমে!
ঝড়ের দিকে মুখ রেখে গোলাপ চেয়ে
সকল বেলায় যেতে যেতে কেউ যেন না বুঝে,
চিঠি লিখতাম তোমার দেওয়া ছদ্মনামে।
বলতাম, তোমার প্রিয়তম নিয়তিতে মিশেছে দুই যুদ্ধরত দেশ,
ভালোবেসে না মরেও সবাই যেমন রোমিও-জুলিয়েট।
বলতাম, লুকিয়ে থাকা তোমার বুকের চাঁদে
মরুভূমি পায় শ্যামল ঘাসের ঘ্রাণ।
নদীর তীর ঘেঁষে ফিরে আসে নারী,
আদিম খাঁচায় স্বেচ্ছায় সাজায়
মদির জোছনার বান!
চিঠি দেখাতো, আমিই সে সমর্পণ, যাকে তুমি
চেয়েছিলে আজীবন বহু নারীর দিকে চেয়ে চেয়ে!
অর্ধেক লিখেছি কি লিখিনি—
ফেলে রাখা চিঠির খামে ধরেছে ঘুণ,
পৃষ্ঠায় পড়েছে পুরোনো রান্নার তেল ও নুন।
শাশ্বত রাত্রির গর্ভে নড়ে ওঠে
সমুজ্জ্বল সমুদ্রের বিস্ময়।
অগুনতি মানুষের ভিড়ে, গভীর অসুখে,
সবচেয়ে সৃষ্টিশীল নিস্তব্ধ চিঠি উড়ে যায়
ধূসর আকাশের ফেনিল মেঘের ভেতরে।
