
আবু সেলিম রেজা
যখন রাত্রি;কালো ওড়নাটা এই পৃথিবীর কাঁধে- বিছায় অলখে,
কোলাহল থামে ক্লান্তি ও অবসাদে
– দেহ ঢলে পড়ে বিছানা বালিশে;
মন সে মুক্তি পায়, নতুন দ্যুতির খোঁজে ছুটে চলে-অসীমের সীমানায়।
সেখানে দেয়াল নেই কোনো;নেই সময়ের শৃংখল,
কাঁটাতারে দেহ আটকায় না তো,বাধাহীন চলাচল।
যেন জাদুকরী সোনার শহর,দেশ রূপকথাময়, মন যেটা চায়;মুখে বলি,আর ঠিক সেই মত হয়।
একে একে খোলে হাজার দরজা;সোনালী নকশা করা,
আমি ঢুকি তাতে বিঘ্ন বিহীন-ভিসা পাসপোর্ট ছাড়া!
এখানে কেবলই জয়;আনন্দ-নেই বিজিতের শ্বাস, নেই ব্যর্থতা;এখানে কেবলই-বিজয়ের ইতিহাস।
আমি দেখি এক মেঘের প্রাসাদ;শূন্যে উঠেছে জেগে, সেটা বয়ে নিয়ে বাতাস পরীরা-ভেসে যায় মৃদু বেগে।
তার নিচে এত গভীর সবুজ;
পাতারা বাতাসে দোলে, সোনালী রূপালী কালো পাখিদের-সমবেত কোলাহলে।
যেখানে লুকায় মানুষের ভয়;শোক তাপ দু’খ লাজ,
ভালোবাসা বয় নদীর মতন-ঘিরে তার চারপাশ।
কারো চোখে নেই ঘৃণার আগুন;প্রতারণা মিছে মায়া,
কণ্ঠে ঝরে না অবহেলা সূত-নীল বিষ,কালো ছায়া।
ডানা ভাঙ্গা তবু উড়ে যেতে পারি;সাবলীল-অনায়াসে,
অসম্ভবের সব সম্ভব-স্বপ্নের সেই দেশে।
কখনো কখনো ঘুম ভেঙ্গে গেলে;অনুভব করি জেগে,
মনে হয় সেই স্বপ্ন গন্ধ-তখনও বালিশে লেগে!
খর মরু দিন আর্দ্রতা পায়;তিক্ততা পড়ে গলে,
যদিও জানি তা তপ্ততা পাবে-ফের বেলা খাড়া হলে।
তবু জেগে দেখি রাতের স্বপ্ন;চোখে মনে খেলা করে,
স্বপ্নের সেতু বয়ে নেয়-নয়া সকালের বন্দরে।
লং আইল্যান্ড নিউইয়র্ক ইউএসএ।