
সফিক সোহেল
হেমন্তের শোভা গ্রাসে ছড়ায় শীতের আমেজ,
প্রকৃতির মতোই বদলায় মানুষের মন ও সাজ।
শীতের শুষ্কতায় সবুজের কোমল প্রলেপ খসে পড়ে,
কবির ভাবনায় ঝরা পত্রের শুষ্ক আবেদন দিগন্ত জুড়ে।
প্রেমিকের অনুভবে থাকে পৌষের উল্লাস আবাহন গীত,
ঝরা পাতাদের বেদানাসিক্ত বিলাপে খুঁজে মরমর তূর্য ঋত।
সকালের বলবিক্রম হারিয়ে অস্তগামী সূর্যই যেন অস্ত-বধূ,
দীপশিখা তার আলো হারিয়ে ফেলে সন্ধ্যা তারার সান্নিধ্যে।
শুষ্ক শাখা, জীর্ণ পাতা, কুয়াশার জাল, হিমহিম হাড়কাঁপুনি,
শীতের শৈত্যপ্রবাহে মিশে থাকে মৌসুমি সমীরণের হাতছানি।
পৌষালি দিন কেটে যায় এক অদ্ভুত কুয়াশার খেলায়,
কুয়াশার রহস্যময় আবরণে ভাসে মন শিশির-ভেলায়।
রাতের কুয়াশা ভোরের শিশির হয়ে হৃদয়ে স্নিগ্ধতা ছড়ায়,
সেজেছে তুলির হিমেল রঙে জীবনানন্দের রূপসী বাংলায়,
রূপের টানে কুয়াশার মাঠে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতায়।
উড়ন্ত ঝরাপাতার হিন্দোল,
আকাশে মলিন চাঁদের টিপ,
নববধূ বরণে থেমে চলা শুরুর মতো স্তব্ধ মূক অরণ্যঘর।
রাগ-অনুরাগে প্রথম কান্নার মতো ঝরেপড়া কুয়াশার জল,
সবই যেন কবির নিমগ্ন চেতনা,
শৃঙ্খলে বাঁধা সদা উচ্ছল।
শিশিরস্নাত ঘাসে কান্নার শেষ মাধুরীটুকু তখনও টলমল,
কুয়াশার লুকোচুরি,
স্বপ্নসম্ভারের অপরূপ শীতের সকাল,
নিষ্প্রাণ শীতল সকাল
প্রাণবন্ত হয় বর্ণিল মৌসুমি কত ফুলে!
রাজেন্দ্রপুর, ২৫-১১-২০২০