
তিন দেশের যৌথ আয়োজনে নতুন যুগের বিশ্বকাপ, মাঠে নামছে রেকর্ড ৪৮ দল
স্পোর্টস ডেস্ক | ১০ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ পর্দা উঠছে আগামী ১১ জুন। ইতিহাসের ২৩তম এই বিশ্বকাপ একাধিক কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসর। একই সঙ্গে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল, যা টুর্নামেন্টটিকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়।
প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই আসর চলবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। মোট ১০৪টি ম্যাচে বিশ্বের সেরা ফুটবল শক্তিগুলো লড়বে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফির জন্য। আয়োজকরা আশা করছেন, দর্শক উপস্থিতি, সম্প্রচার এবং ডিজিটাল দর্শকসংখ্যার দিক থেকে এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন।
উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতি ও উত্তর আমেরিকার আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ফরম্যাট, নতুন চ্যালেঞ্জ
ফিফা এবার ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে, প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ দলগুলোর পাশাপাশি সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী কয়েকটি দলও নকআউট পর্বে জায়গা পাবে।
ফিফার মতে, এই সম্প্রসারিত ফরম্যাট বিশ্বকাপে আরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে এবং নতুন ফুটবল শক্তিগুলোর জন্য বড় মঞ্চ তৈরি করবে।
নজর কাড়ছে যেসব গ্রুপ
গ্রুপ সি: ব্রাজিলের পরীক্ষা
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে লড়তে হবে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলে শক্ত অবস্থান তৈরি করা মরক্কো ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
গ্রুপ ডি: স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মিশন
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রয়েছে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। ঘরের মাঠের সমর্থন কাজে লাগিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রুপ এইচ: ইউরোপ-দক্ষিণ আমেরিকার লড়াই
স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দেকে নিয়ে গঠিত এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে উত্তেজনাপূর্ণ।
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনার দিকে নজর
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
গ্রুপ এল: শক্তির ভারসাম্যের গ্রুপ
ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামাকে নিয়ে গঠিত গ্রুপটি শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আলোচনায় যেসব ম্যাচ
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই রয়েছে কয়েকটি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ—
- ব্রাজিল বনাম মরক্কো — ১৪ জুন
- যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে — ১৩ জুন
- নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান — ১৫ জুন
- ফ্রান্স বনাম সেনেগাল — ১৭ জুন
- আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া — ১৭ জুন
- ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া — ১৮ জুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচগুলোই প্রাথমিকভাবে দলগুলোর শক্তিমত্তা ও শিরোপা সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে।
যাদের দিকে থাকবে নজর
বিশ্বকাপজুড়ে সমর্থকদের চোখ থাকবে বিশ্বের সেরা তারকাদের ওপর। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ ক্লাবগুলোতে আলো ছড়ানো খেলোয়াড়রা এবার দেশের জার্সিতে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের জন্যও এটি হতে পারে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুবর্ণ সুযোগ।
অর্থনীতি ও দর্শকসংখ্যায় নতুন রেকর্ডের প্রত্যাশা
বিশ্বকাপকে ঘিরে আয়োজক তিন দেশে পর্যটন, পরিবহন, হোটেল ও বাণিজ্য খাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, কোটি কোটি দর্শক সরাসরি ও ডিজিটাল মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট অনুসরণ করবেন।
ফাইনালের অপেক্ষা
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময়ের লড়াই শেষে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মহারণ—ফাইনাল। সেদিনই নির্ধারিত হবে ফুটবল বিশ্বের নতুন রাজা।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন উত্তর আমেরিকার দিকে। নতুন ফরম্যাট, নতুন ভেন্যু, নতুন তারকা এবং নতুন ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ।