
জাহ্নবী কাপুরের নতুন চলচ্চিত্র ‘পেড্ডি’ মুক্তির পরপরই বিতর্কের মুখে পড়েছে। ছবিতে তিনি রাম চরণের বিপরীতে অভিনয় করলেও, অনেক দর্শক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে না দেখিয়ে মূলত একটি “গ্ল্যামার এলিমেন্ট” হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
গায়িকা সুমঙ্গলীসহ একাধিক ব্যক্তি ছবিটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন ও চিত্রায়ন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, স্টাইলিং এবং দৃশ্যায়নে জাহ্নবী কাপুরকে অতিরিক্ত গ্ল্যামারাসভাবে দেখানো হয়েছে, যেখানে চরিত্রগত গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে ছবিতে তাঁর চরিত্রটি কাহিনির মূল প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বদলে প্রায় “প্রপ” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
এই বিতর্ক নতুন নয়। ভারতীয় সিনেমায়—বিশেষ করে বলিউড ও দক্ষিণী বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে—অভিনেত্রীদের চরিত্রায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমালোচনা দেখা গেছে।
আলিয়া ভাট – ‘RRR’
এস. এস. রাজামৌলির RRR ছবিতে আলিয়া ভাটের উপস্থিতি সীমিত ছিল বলে অনেক দর্শকের মত। তাঁদের মতে, তাঁর চরিত্রটি মূলত রাম চরণের চরিত্রের আবেগঘন দিককে সমর্থন করতেই ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ কম ছিল।
তামান্না ভাটিয়া – ‘বাহুবলী’
‘বাহুবলী’তে তামান্না ভাটিয়ার চরিত্র প্রথমে শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপিত হলেও পরবর্তীতে তার গভীরতা কমে যায় বলে অনেকে মনে করেন। কিছু দৃশ্যে অতিরিক্ত গ্ল্যামার উপস্থাপন নিয়েও সমালোচনা হয়।
বাণী কাপুর – ‘শমশেরা’
‘শমশেরা’ ছবিতে বাণী কাপুরের চরিত্রকে অনেকেই গল্পে অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেন। মূলত গান ও রোমান্টিক দৃশ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দিশা পাটানি – ‘রাধে’
‘রাধে’ ছবিতে দিশা পাটানির চরিত্রকে অনেক দর্শক “ডেকোরেটিভ” বলে সমালোচনা করেন, কারণ তাঁর উপস্থিতি গল্পের তুলনায় গ্ল্যামারাস দৃশ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল।
ক্যাটরিনা কাইফ – ‘তেশ মার খান’
‘শিলা কি জওয়ানি’ গানের জনপ্রিয়তা থাকলেও ছবিতে ক্যাটরিনা কাইফের চরিত্রকে অনেকে গভীরতাহীন ও গ্ল্যামার-কেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করেন।
সমালোচকদের মতে, বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নারীকেন্দ্রিক চরিত্র উপস্থাপনায় এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চললেও, বর্তমানে দর্শকদের সচেতনতা বেড়েছে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের উপস্থাপনা নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে ‘কুইন’, ‘কাহানি’, ‘রায়া’, ‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’ এবং ‘মিমি’-এর মতো নারী-নির্ভর চলচ্চিত্রগুলো প্রমাণ করেছে যে শক্তিশালী ও আবেগপূর্ণ নারী চরিত্র দর্শকদের কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর ‘পেড্ডি’ ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্র বাস্তবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, নাকি এই বিতর্কই ছবির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে থাকবে।
