নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ–বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকার গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এমপির অভিযোগ, হামলায় স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা জড়িত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি বিক্রি চলছিল, এরপর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাছুম মোস্তফা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সেখানে যান এবং পাম্পের মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি একটি কক্ষে নামাজ আদায় করতে যান। এ সময় ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২০–২৫ জন যুবক এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করে এবং হট্টগোল সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা এমপির গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। নামাজ শেষে বাইরে বের হলে তাঁকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
মাছুম মোস্তফা বলেন, তিনি তেল নিতে গেলে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায় এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী–সমর্থকদেরও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
ঘটনার সময় সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর পূর্বধলা থানা-পুলিশ এসে এমপিকে উদ্ধার করে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো গাড়িতে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩০–৩৫ জন কর্মী এই হামলায় অংশ নেয়। তারা এমপির গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকেও মারধর করে।
জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এমপিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তবে বিএনপির স্থানীয় নেতা আবু তাহের তালুকদার হামলার কথা শুনেছেন বলে জানালেও এতে তাঁর দলের কোনো নেতা–কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
এদিকে, জেলা জামায়াত নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মসজিদে নামাজের সময় এমপির গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।