সামসুন নাহার
অনেক মানুষকে দেখি জীবনের কষ্টের গল্প বলতে। না পাওয়ার কথা, অবহেলার কথা, শূন্যতার কথা… শুনলে সত্যিই মায়া লাগে। কিছু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুঃখ বয়ে বেড়াতে বেড়াতে দুঃখকেই যেন নিজের পরিচয় বানিয়ে ফেলেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো— মানুষ দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে চায়, কিন্তু মুক্তির জন্য যে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, সেখানে যেতে চায় না।

মানুষ জীবনে প্রাচুর্য চায়, কিন্তু প্রাচুর্য অর্জনের যে শ্রম, সেই শ্রমটুকু দিতে চায় না। আবার এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা অসুস্থতাকে বয়ে বেড়াতে ভালোবাসে, নিজের কষ্টের গল্প বলতে ভালোবাসে, কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিনের ছোট ছোট নিয়মগুলো মানতে চায় না। রাত জাগবে, অস্থিরতায় ডুবে থাকবে, নিজেকে অবহেলা করবে, তারপর একদিন বলবে— “জীবনটা কেন এত ক্লান্ত?” সমস্যায় পড়ে সরভাইব করার চেষ্টা করা আর সমস্যায় না পড়ার মতো জীবন গড়া— দুটোর মধ্যে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত পার্থক্য। আমরা হয়তো পৃথিবী বদলাতে পারব না, সমাজও না। কিন্তু নিজের জীবনটাকে একটু সচেতনভাবে গুছিয়ে নিতে তো পারি। কারণ নিজের যত্নায়ন কোনো বিলাসিতা নয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিজের প্রতি, নিজের ভবিষ্যতের প্রতি। বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় খুঁজতে দৌড়ানোর চেয়ে বৃষ্টির আগেই ছাতা সঙ্গে রাখা সবসময় সহজ। তাই নয় কি! জীবনের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ কষ্টও ঠিক তেমন— হঠাৎ আসে না, ধীরে ধীরে তৈরি হয়। আর সুস্থ জীবনও হঠাৎ তৈরি হয় না, সেটাও প্রতিদিন একটু একটু যত্ন করে গড়ে তুলতে হয়। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, আপনি ভালো থাকবেন। আপনার চারপাশের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকবেন। ইনশাআল্লাহ!! শুভকামনা নিরন্তর ..
পদবী: Youth Counselor & Social Welfare Organizer(ইউথ কাউন্সেলর এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজার)