
কোরান জীবনবিধান নয়। ইহা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন। সাধক ব্যতীত কেহই এই দর্শনের সন্ধান পাইতে পারে না। সালাত এই দর্শন জ্ঞানের মূল উৎস। ইহার দর্শনে যিনি পরিপক্ক তিনি যখন যে বিধান যাহাকে দান করিবেন তাহাই তখন তাহার জন্য কোরানের বিধান।
বিধান পরিবর্তনশীল কিন্তু দর্শন অপরিবর্তনশীল। জীবন-দর্শন ও জীবন বিধান এক নহে। জীবন বিধান তথা ধর্ম পরিবর্তনশীল কিন্তু জীবন দর্শন পরিবর্তনীয় নহে। প্রত্যেক নবি যে যুগের জন্য যেরূপ জীবন বিধান প্রযোজ্য তাহাই যুগোপযোগী করিয়া উহাকে পূর্ণতা দান করিয়া গিয়াছেন যেন মানুষের কর্মের উপর আল্লাহই জাহের হইয়া উঠেন। অর্থাৎ কর্মের বন্ধন জাহের না হইয়া উহা হইতে মুক্তি জাহের হইয়া তাহা কর্মের উপরে কর্তা হইয়া থাকে।
কেতাবের পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জনের দ্বারাই জীবন-দর্শন লাভ হয়। প্রত্যেক নবি মানসিকভাবে অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে বাস করেন। নবীগণ জীবন-দর্শনের অধিকারী তাই তাঁহারা যে সময়ের জন্য যাহাকে যে বিধান দান করে তাহাই তাহার জন্য সত্য ধর্ম। দর্শনবিহীন যে সকল বিধান মানুষ নিজেরা রচনা করিয়া থাকে তাহা সত্য ধর্ম নহে। এই সব ধর্মের উপর অর্থাৎ আমাদের খাওয়া-পরা, চলা-ফেরা ইত্যাদি সর্বপ্রকার কর্মকাণ্ড ও চিন্তা-ভাবনার উপর আল্লাহ্র প্রেরিত রাসুলগণ অর্থাৎ প্রতিনিধিগণ তাঁহাদের বিধান জারি করিয়া তাহাকে সত্যধর্মে পরিণত করিয়া থাকেন।
অতএব দর্শন-ভিত্তিক সর্বযুগের সকল ধর্মই সত্যধর্ম এবং সুফলপ্রদ। অপর পক্ষে আত্মদর্শনহীন মানুষের রচিত জীবন ব্যবস্থা তথা ধর্ম অবশ্য ত্রুটিযুক্ত হইয়া থাকে।
সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী