[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম মতামত

সন্তানের আচরণ অবাধ্যতা বলে মনে হয় (পর্ব–৩)

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/u7erw9

সামসুন নাহার

গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম, খেলনার দোকানে লিনার কান্না ও রাগের পেছনে হয়তো এমন কিছু অনুভূতি কাজ করছিল, যা সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। যখন কোনো শিশু অপ্রত্যাশিত আচরণ করে, আমরা সাধারণত কী জিজ্ঞেস করি? তুমি এমন আচরণ করছ কেন?

প্রশ্নটি খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সচেতন প্যারেন্টিং আমাদের আরেকটি প্রশ্ন করতে শেখায়— *”আমার সন্তান আমাকে কী বোঝাতে চাইছে?

এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্যই অনেক সময় বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক বদলে দিতে পারে। প্রথম প্রশ্নটি আচরণের দিকে তাকায়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি অনুভূতির দিকে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আচরণ হলো অনুভূতির ভাষা। শিশুর মস্তিষ্ক এখনো নির্মাণাধীন আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, শিশুরা ছোট আকারের প্রাপ্তবয়স্ক নয়। তাদের মস্তিষ্ক এখনো ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। বিশেষ করে যে অংশটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে, সেটি পুরোপুরি পরিণত হতে আরও অনেক বছর সময় নেয়। তাই যখন কোনো শিশু খুব রেগে যায়, খুব কষ্ট পায় বা কোনো আবেগে ভেসে যায়, তখন তার অনুভূতিগুলোই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে যুক্তি কাজ করে না। দীর্ঘ বক্তৃতা কাজ করে না। বকা বা শাসনও খুব একটা কাজে আসে না। কারণ তখন শিশুটি শেখার অবস্থায় থাকে না, সে থাকে সংগ্রামের অবস্থায়। আর সেই মুহূর্তে তার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয় সংযোগ।কেউ একজন তাকে বুঝুক। কেউ একজন তার পাশে থাকুক। লিনার মায়ের উপলব্ধি লিনার মা একসময় ভাবতেন, তার মেয়ে খুব জেদি। প্রতিটি কান্না, প্রতিটি রাগ, প্রতিটি মেল্টডাউন তার কাছে অবাধ্যতা বলে মনে হতো। কিন্তু একদিন তিনি একটি বিষয় খেয়াল করলেন। লিনা যখন খুব ক্লান্ত থাকত, যখন তার ক্ষুধা লাগত, অথবা যখন চারপাশের পরিবেশ খুব বেশি রাশ হয়ে উঠত, তখনই তার রাগ ও কান্না বেড়ে যেত। ধীরে ধীরে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করলেন। তিনি শুধু আচরণ দেখলেন না, কারণ খুঁজতে শুরু করলেন। বের হওয়ার সময় সঙ্গে হালকা খাবার রাখতে লাগলেন। লিনা ক্লান্ত থাকলে দীর্ঘ সময়ের কেনাকাটা এড়িয়ে চললেন। আর মেল্টডাউনের সময় রাগারাগি না করে নিজে শান্ত থাকার চেষ্টা করলেন। ফলাফল? লিনার সব কান্না বা রাগ একদিনে বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু সেগুলো সামলানো অনেক সহজ হয়ে গেল। কারণ তিনি আর আচরণের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন না। তিনি তার সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করছিলেন।

প্যারেন্টিংয়ের একটি গভীর সত্য হলো— যে আচরণকে আমরা সমস্যা ভাবি, সেটিই অনেক সময় একটি অপ্রকাশিত চাহিদার সংকেত।* আর যখন আমরা সেই সংকেত জানতে শিখি, তখন শাসনের চেয়ে বোঝাপড়া, রাগের চেয়ে সংযোগ, এবং প্রতিক্রিয়ার চেয়ে সচেতনতা বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

চলবে..

সামসুন নাহার Author | Independent Parenting Researcher | Youth Counselor | Social Welfare Organizer

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন