, ,

, ,

হোম মতামত

বাতিল জিনিসের আলাপ এবং ছাত্রদের ক্ষমতালোভ

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/gi0eq3

কাকন রেজা :


হোসেন জিল্লুর রহমান অসময়ে সরব, সময়ে নীরব। এবং তা বরাবরই। ফ্যাসিস্টদের কুসুম কুসুম বিরোধীতা করেছেন। যে বিষয়ে বিরোধীতা করেছেন, তাতে বিরোধীতা করা বা না করা একই কথা। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং তিনি ফ্যাসিজমের সূতিকাগার অভিশপ্ত ওয়ান ইলেভেনের সুবিধাভোগী। ফখরুদ্দিন সরকারের উপদেষ্টা। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি ভালো, একথা অস্বীকারের জো নেই। কিন্তু দেশের অর্থনীতির জন্য তিনি তেমন কিছুই করতে পারেননি বরং বারোটা বাজাতে ফখরুদ্দিনকে সহায়তা করেছেন। এই লোক আবার এখন উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। এটুকু হলো আমার কথা। অনেকেই বলতে পারেন, আপনি কোন ‘ইয়ের ইয়ে’। না, কোনো ‘ইয়ের ইয়ে’ নই। তবে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় কিছুদিন অর্থনীতি বিষয়ে কলাম লিখেছি। সেকারণেই যৎসামান্য পড়াশোনা আছে অর্থনীতি বিষয়ে।

আমার কথা বাদ দিই। দেখি গুগল এর এআই কী বলে জুলাই বিপ্লবে তার ভূমিকা নিয়ে। গুগল বলছে, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বা রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেননি। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি একজন বিশিষ্ট নীতিবিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ হিসেবে রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।’

অর্থাৎ বিপ্লব পরবর্তী সময়ে তিনি নাজিল হয়েছেন উপদেশদাতা হিসেবে। গত পহেলা আগস্টে তার আলাপের অংশ চোখে পড়লো। তিনি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দোষারোপ করেছেন ছাত্রদের ক্ষমতালোভী বানানোর জন্য। মজার ব্যাপার না। ছাত্রদের ক্ষমতার লোভ থাকবে না, থাকবে শুধু হোসেন জিল্লুর রহমানদের। অনেকটা বর্ণাশ্রমের মতন। জিল্লুর রহমান’রা রাজা হবেন আর ছাত্ররা হবে তাদের রক্ষাকারী সৈন্য। ক্ষত্রিয় আর কী। আঞ্চলিক অর্থে ছত্রিয়। যার অর্থ সৈন্য, ছত্রী। প্রাচীন বৈদিক চতুর্বর্ণ বর্গের দ্বিতীয় বর্গ। মূলত রাজাদের রক্ষাকারী। অর্থাৎ হোসেন জিল্লুরদের বডিগার্ড। তাদের কেন ক্ষমতার লোভ থাকবে, ক্ষমতার প্রশ্নেই হোসেন জিল্লুরদের রাগ ছাত্রদের প্রতি। জিল্লুররা বুড়ো হয়ে যাবেন, চলৎশক্তি থাকবে না, হুইলচেয়ারের বসবেন তবু ক্ষমতা ছাড়বেন না এবং ক্ষমতার লোভ।

এই রাগ অনেকেরই, লোভও। তরুণরা সারাজীবন বুড়োভাটদের ছত্রী হয়ে থাকবে। তাদের দৌড় আমলা, মিলিটারি, চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ এই পর্যন্তই। এর বাইরে তাদের জায়গা নেই। তুষার, আবিদ, হামিম, সাদেক কায়েম, সামান্থা এদের মতন চৌকষরা ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাদের হোসেন জিল্লুরদের মতন বৃদ্ধদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে হবে। ‘আই হেইট পলিটিক্স’ জেনারেশন সৃষ্টি করতে হবে, পূর্বের মতন। ছাত্ররা যখন রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠলো তখনই কিন্তু পরিবর্তন ঘটলো দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের। ছাত্ররা রাস্তায় নেমে না আসলে জুলাইয়ের বিপ্লব অসম্ভব ছিল বুড়োদের জন্য। আর হোসেন জিল্লুর রহমান’রা তো চাচ্ছিলেনই না পরিবর্তন। তারা তো ঝালে-ঝোলে ভালোই ছিলেন।

কী ছিলেন না তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানে ম্যানচেস্টার থেকে পিএইচডিসহ কতকিছু ডিগ্রি আর পদ রয়েছে তার ঝোলায়। অনেক ক্ষমতাবান মানুষ। কিন্তু ম্যানচেস্টারের রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের পিএইচডি তাকে এই শেখালো যে, ছাত্রদের ক্ষমতার লোভ থেকে নিরুৎসাহিত করা- হায় খালিদ!

আমাদের যারা পথ-প্রদর্শক হতে পারতেন, তাদের এইরকম বুদ্ধির স্খলনে আমাদের কী করা উচিত, শোক পালন করা উচিত? বলা উচিত তাদের মৃত বুদ্ধিদের সদগতি হোক? কী করা উচিত আসলে? হোসেন জিল্লুর রহমানদের উচিত ছিল যখন দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছিল যথেচ্ছ, তখন সকল শক্তিকে ব্যবহার করে দেশের সর্বনাশ ঠেকানো। সেটা তারা করেননি। অর্থনীতিতের টাকা পাচার বিষয়টি খুব সোজা ভাষায় ব্যাখ্যা করি। দেশের অর্থনীতিকে যদি একটা মানুষের শরীরের সাথে তুলনা করেন, তাহলে তরল টাকা হলো রক্ত। রক্ত হলো শরীরের জ্বালানি। রক্ত সঞ্চালন থেমে গেলে শরীরের মৃত্যু ঘটে। দেশের টাকা চুরি করে যদি দেশেই বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে সম্ভবত হয়তো রক্তশূন্যতা দেখা দিতো না। কিন্তু শরীর থেকে রক্ত যদি বের করে নেয়া হয় তাহলে শরীর তো রক্তশূন্য হবেই। এবং একসময় শরীরের মৃত্যু ঘটবে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। লক্ষকোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গিয়েছে গত ফ্যাসিস্টকালে, সুতরাং আমাদের অর্থনীতি সঙ্গতই রক্তশূন্যতার কবলে। হোসেন জিল্লুর রহমানরা এর বিপরীতে রক্ত সঞ্চালনের কোন উপায় উদ্ভাবন করেছেন? কতটা রক্তের ব্যবস্থা করেছেন সংকটাপন্ন রোগীকে বাঁচাতে? প্রশ্ন রইলো।

এই লোকগুলো যখন উপদেশ দিতে আসেন তখন গায়ে লাগে। ফাজলামো মনে হয়। জানি, অনেকেই অনেক ব্যাখ্যা দেবেন। যেমন দেন, বুড়োরা। কৌশলগত কারনে তারা চব্বিশে চুপ ছিলেন। এই কৌশল যে কায়েরের কৌশল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কৌশল যারা করেছেন, তারা চব্বিশেই বাতিল হয়ে গিয়েছেন। বাতিল জিনিস কোনো কাজে আসে না। সুতরাং, বাতিলদের বাতিল বলেই গণ্য করুন এবং ছাত্রদের ক্ষমতার লোভ দেখান। তাদের ফ্রেশ ব্লাড দেশটাকে ফ্রেশ করতে পারে। দেশটার রিফ্রেশ দরকার।

লেখক – কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন