
হারুন রশিদ
আমাদের দেশে কত কিছুইনা ঘটেছে। পাঠান, মুঘলরা এদেশ দখল করে ব্যাপক লুন্ঠন, হত্যা-ধর্ষন করেছে, তারপর শাষন করেছে। আমরা আবার শিষ্টাচার জাতি। তাই আমাদের পন্ডিতেরা ইতিহাসে এসব রাখ-ঢাখ করে লেখে।
ইংরেজ ফিরিঙ্গিরা শাষন করেছে, তারা শুধু শাষন আর লুন্ঠন করেনি। না খাইয়ে এই বাংলায় দুই কিস্তিতে প্রায় তিন কোটি মানুষকে খুন করেছে। আমাদের জ্ঞানীজনেরা একটু আহ্লাদী করে এটাকে বলে মনান্তর। তারপর পাকিস্তানীদের শাষন। শাষন, শোষন তারপর ৭১সালে তারা আমাদেরকে হত্যা, ধর্ষন ও লুন্ঠন করেছে। তবে আমরা বাঙ্গালীরা তাদেরকে পরাস্ত করে স্বাধীন জাতি হিসেবে দুনিয়ায় মাথা তুলে দাড়িয়েছি।
মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা ভৌগলিক ভাবে স্বাধীন। কিন্তু আমাদের দেশে ইংরেজ ও পাকিস্তানীদের বেশীর ভাগ আইন-কানুন, প্রশাসনিক বিধি-বিধানিএখনো বহাল রয়েছে।
এটা মিথ হতে পারে আবার সত্যও হতে পারে। তবে আমাদের কালে এটা মুখে মুখে চালু ছিল। ইংরেজ শাষনকালের প্রথম দিকে বিচারক, ম্যাজিষ্ট্রেট সবাই ইংরেজ ছিল। এর পূর্বে মূঘলদের শাষনকালে রাজভাষা ছিল ফাার্সি। ইংরেজ শাষনকালে বেশ কিছুদিন ফার্সি চালু ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজির প্রচলন হয়। তখন আদালতে বাদী-বিবাদীদের মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য মোক্তারদের একটা পরীক্ষা নেওয়া হতো। তাতে মোক্তারদের কিছু চলনসই ইংরেজি ও বিলেতি আইন শিখতে হতো। তারপর একটা পরীক্ষা হতো। এই পরীক্ষায় বড় একটা কেউ ফেল করতোনা। তাই তখনকার বিদ্বজ্জনেরা উপহাস করে বলতো দড়াটান পাশ বা দড়াটানা মোক্তার।
একবার একটা মহাকুমা আদালতে একটা খুনের মামলা চলছে। বিচারক যথাক্রমে ইংরেজ। বাদী পক্ষের মোক্তার বিচারককে খুনের বিষয় বুঝানোর এক পর্যায়ে কী অস্ত্র দিয়ে আসামীকে খুন করেছে সেটা বলছে।
ডিয়ার লর্ড হি মার্ডার করিছে, বাই দ্যা কাচি।
তখন বিচারক জানতে চাচ্ছে, হোয়ট ইজ কল কাচি।
তখন বাদী পক্ষের মোক্তার বলছে, ডিয়ার লর্ড কাচি ইজ ওয়ান কাইন্ড অফ দাও অন সাইড ইজ সমান আদার সাইড ইজ খাজ কাটা খাজ কাটা।
অর্থাৎ আসামী কাস্তে দ্বারা খুন করেছে।
বিচারক কোন ভাবেই মোক্তারের কথা বুঝতে না পেরে কয়েকবা অর্ডার অর্ডার বলে এজলাস থেকে প্রস্থান করেন। এরপর থেকে ইংরেজ শাসকেরা প্রতি মহাকুমা কোর্টে ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট চালু করে। এখানে এমন কর্মচারী নিয়োগ করে, যারা ইংরেজি জানে এবং নেটিভদের ভাষা বুঝতে পারে। তারাই ইংরেজ জজ, ম্যাজিষ্টেটদের কাজে সহায়তা করতো।আমাদের প্রতি জেলা আদালতে এখনো সেই ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট বহাল রয়েছে।