[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম মতামত

পরগাছা ও মানুষ এবং চিন্তার নিজস্বতা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/1bgwoh

কাকন রেজা :

শম্পা রেজা’র সাথে আমার প্রথম দেখা রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে, খালার বাসায়। তখন আমি সম্ভবত সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। প্রথম দেখাতেই তাকে আমার একটা পুতুল মনে হয়েছিল। না, সুন্দর অর্থে নয়, মেকি অর্থে। মানুষ নামের সাজানো পুতুল। নিজস্বতা বলতে কিছু নেই, আছে শুধু কলকাতাকে নকল করার এক প্রাণান্ত চেষ্টা। সাজে-পোশাকে, কথা-আলাপে। সে বয়সেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, এই মানুষ, নকল মানুষ। যখন বুঝতে শিখেছি, তার অভিনয় দেখেছি, তখন হেসেছি। অভিনয়ের কিছুই তার মধ্যে নেই, ন্যাকামো ছাড়া। বরং গানে তিনি কিছু করতে পারতেন, যদি তার নিজস্বতা থাকতো। কিন্তু তার নিজের ওপর ভরসা ছিল না, ভরসা ছিল কলকাতার উপর। তিনি কলকাতার মেয়ে হতে চেয়েছিলেন, ঢাকার নয়। ভাষা নিয়ে আপত্তি তার সেখান থেকেই। শান্তিনিকেতনী ভাষা, বোলপুরের আলাপ তার কাছে প্রিয় ছিল এবং এটা তার পরগাছা হওয়ার প্রমাণ। হ্যাঁ, স্রেফ পরগাছা। তার সাথে পরেও দেখা হয়েছে, কথা হয়নি। ইচ্ছে ছিল না। অযথা কথা বলার কোনো মানে নেই বলে। ব্রেইনলেস ক্রিয়েচার বোধহয় হুমায়ূন আহমেদ এদেরকেই বলেছিলেন। যদিও হুমায়ূন নিজেও একজন ব্রেইনলেসকে জীবনসঙ্গী করেছিলেন শেষ বয়সে। চুম্বকের সেই সূত্র, বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এই সকল ব্রেইনলেস ক্রিয়েচাররা জড়ো হয়েছে একটি বৃক্ষের নিচে। যে বৃক্ষের নাম ইন্ডিয়া। যার বাংলাদেশি শাখা ছিল বিগত পতিত রেজিম। সেই শাখাকে কেন্দ্র করেই ব্রেইনলেস পরগাছাগুলো বেড়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই শাখাকে কেটে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের জেনারেশন জেড তথা জে-জি’দের নেতৃত্বে। এরা এখন আশ্রয়ের অভাবে পাগলপারা হয়ে ওঠেছে। তারই নিদর্শন দেখা যাচ্ছে গত দেড় বছর ধরে। এসব পরগাছাদের মূল অংশ এখন দেশের বাইরে। যেমন শম্পা রেজাকে দেখা গেছে লন্ডনে। তার সাথে আরও কিছু পরগাছাও রয়েছে সেখানে। অনেকে রয়েছে অ্যামেরিকা এবং ইউরোপের অন্যান্য জায়গায়। কানাডায় রয়েছে এদের বড় একটা অংশ। অরুণা বিশ্বাস, আরেক ব্রেইনলেস ক্রিয়েচার, পরগাছা, আস্তানা গেড়েছে কানাডায়। যাত্রা থেকে উঠে আসা এক পারফর্মার, তাকে অভিনেত্রী বলাটা ঠিক হবে না। অভিনয়ের মূল কথা হলো, অভিনয়কে যেন ন্যাচারাল মনে হয়। যাত্রাপালা থেকে উঠে আসা অরুণা বিশ্বাসকে সেকথা বোঝাবে কে। তার ন্যাচারই যে ন্যাচারাল নয়। সুতরাং, তাকে পারফর্মার বলাই ভালো। এই পরগাছাকেও ইদানিং ছটফট করতে দেখা যায়। পরগাছাদের অক্সিজেন স্বল্পতার বিষয়টা বুঝতে পারি। অক্সিজেন পাবার জন্য যেমন করোনা রোগী মরিয়া হয়ে ওঠে, এদের অবস্থাও তাই। এখন তারা মরিয়া। তাদের মরিয়াপনার নমুনা দেখা যায় সামাজিকমাধ্যমে। নানান পেইজ, গ্রুপ খুলে তারা রীতিমত হাউকাউ বাঁধিয়ে দিয়েছে। তাদের সম্মিলিত নিনাদে সামাজিকমাধ্যম এখন সরগরম। এই গরমের আঁচ লেগেছে আমাদের একশ্রেনির পরগাছা গণমাধ্যমেও। তারা সামাজিকমাধ্যমের সেই আঁচ বিলিয়ে বেড়াচ্ছে নানান ছলছুতায়। ফটোকার্ড তারমধ্যে অন্যতম। খবরকে টুইস্ট করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো এই ফটোকার্ড। গণমাধ্যমের পরগাছারা এই ফটোকার্ডের মাধ্যমে অক্সিজেন সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। সাথে যুক্ত হয়েছে হাতেগোনা চার-পাঁচজন সাবেক ‘সাংবাদিক’। সাংবাদিক শব্দটিকে কমাবদ্ধ করলাম এজন্য যে, এরা কোনদিনই সাংবাদিক হয়ে উঠতে পারেননি, মূলত তারা হয়ে উঠেছিলেন স্তাবক। পরগাছারা যা হয়। বিশ্বাস হয় না? তাহলে বর্তমান শাসকদলকে বলুন এদের একটা ভালো জায়গা দিতে, যেখানে তারা বিগত সময়ের মতন ভোগ-বিলাসে সময় কাটাতে পারবেন। দেখবেন, তাদের বেশিরভাগই বর্তমান সরকারের স্তাবক হয়ে উঠেছে। এবং স্তাবকতার তোড়ে এই সরকারকেও তারা ডোবানোর চেষ্টা করবে ঠিক বিগত রেজিমের মতন। কিছু হয়তো থাকবে আগের রেজিমের বন্দনাতেই। মূলত এই অংশটি ডগমাটিক। ডগমাটিজমকে একটা মানসিক রোগ হিসেবেই ধরে নিতে পারেন। কারণ, এদের কাছে ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি হলো দলীয় আনুগত্য। চিন্তার দাসত্ব। এরা মনে করে, তার দল যা বলে তাই ঠিক। এর বাইরে কিছু নেই। দেখেন শম্পা রেজা, অরুণা বিশ্বাস, মেহের আফরোজ শাওনদের। এদের কাছের মানুষের জানের কোনো দাম নেই। মানুষের মৃত্যু এদের মনে দাগ কাটে না। কিন্তু নেত্রীর শাড়ির কোনা ছিঁড়ে গেলে তাদের কলিজা ছিড়ে যায়। আজব! এই আজব, ব্রেইনলেস ক্রিয়েচার, পরগাছাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। কবন্ধদের ব্যাপারে সজাগ থাকা জরুরি। যাদের নিজস্ব চিন্তা নেই, ধার করা চিন্তায় চলে, তাদের পক্ষে যেকোনো কিছু ঘটানো সম্ভব। এরা মনুষ্য প্রজাতির সংজ্ঞায় পড়ে না। রোবট বলতে পারেন। ফ্যাসিজমের প্রোগ্রাম করা রোবট।

কাকন রেজা -কবি, লেখক, কলামিস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন