
নাহার
সকালের নীরবতা হঠাৎ ভেঙে গেল কাঁচ ভাঙার শব্দে। আট বছরের রাফিন রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাত কাঁপছিল। চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক। মা ঘরে ঢোকার আগেই সে নিচু স্বরে বলল, “সরি মা… আমি ইচ্ছে করে করিনি।”
তার কণ্ঠে অনুশোচনার চেয়ে ভয়ই যেন বেশি ছিল। হয়তো সে অপেক্ষা করছিল বকা খাওয়ার জন্যে। হয়তো সে ভাবছিল, এবার নিশ্চয়ই মা রেগে যাবেন। মা ঘরে ঢুকলেন। ভাঙা কাঁচের দিকে তাকালেন। তারপর ছেলের দিকে। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। এর আগেও বাসায় জিনিসপত্র ভেঙেছে। এর আগেও ভুল হয়েছে। কিন্তু সেদিন তিনি ভিন্ন একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। রাগারাগি না করে শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“কোনো সমস্যা নেই। চলো, আমরা একসাথে পরিষ্কার করি।” রাফিন বিস্ময়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। সে শাস্তি পেল না। চিৎকার শুনল না। সে শুধু বুঝতে পারল তার ভুলের চেয়ে সে নিজেই তার মায়ের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
– আমরা প্রায়ই মনে করি, সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে হলে তাকে ভয় দেখাতে হবে। আপনি জানেন কি? ভয় সাময়িকভাবে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু চরিত্র গড়তে পারে না। ভয় শিশুকে ভুল লুকাতে শেখায়। আর নিরাপত্তা তাকে ভুল স্বীকার করতে শেখায়। ভয় তাকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর সংযোগ তাকে কাছে টেনে আনে। – অবশ্য ইতিবাচক প্যারেন্টিংয়ের অর্থ এই নয় যে সন্তান যা খুশি তাই করবে। বরং এর অর্থ হলো সন্তান ভুল করলে তাকে অপমান না করে শেখানো। তার আচরণ সংশোধন করা, কিন্তু তার আত্মমর্যাদা ভেঙে না দেওয়া। কারণ একটি শিশু সবচেয়ে বেশি শেখে তখনই, যখন সে নিরাপদ বোধ করে।
আজকের উপলব্ধি: শিশুরা আমাদের কথার চেয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া বেশি মনে রাখে।“সেদিন রাফিন শুধু একটি গ্লাস ভাঙেনি; তার মা ঠিক করে দিয়েছিলেন, সে নিজের ভুলকে ভয় পাবে নাকি সেখান থেকে শিখবে।” ( চলবে…)
[Author | Independent Parenting Researcher | Youth Counselor | Social Welfare Organizer]