
ক্রীড়া প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পরও জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৭ রানে হেরে গেছে স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের ব্যাটে প্রথম ৩ ওভারেই আসে ৪২ রান। তবে ইনিংসের মাঝপথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি দল।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। শেষ ৩ বলে সমীকরণ নেমে আসে ১৮ রানে। চোটের কারণে অনুপস্থিত লিটন দাসের বদলে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগান। পরের বলে চার মারলেও শেষ বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তাতেই বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়।
এর আগে বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। শরীফুল ইসলামের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া নাহিদ রানা এবং মেহেদী হাসানের পরিবর্তে খেলা নাসুম আহমেদ দ্রুতই সাফল্য এনে দেন। নাসুম এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন জশ ইংলিসকে, আর নাহিদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুপার কনোলি।
পাওয়ার প্লের মধ্যেই তৃতীয় উইকেটও তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪৩ রান।
তবে সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রেনশ। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৫২ বলে ৮৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসান ঝড়ো সূচনা এনে দেন বাংলাদেশকে। ১৫ বলে ৩০ রান করে তিনি আউট হলেও দলের রান তোলার গতি ধরে রাখেন সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন।
সৌম্য ৯ বলে ১৫ রান করে বিদায় নিলেও সাইফ ও পারভেজের ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অ্যারন হার্ডির বলে পরপর আউট হন দুজনই। পারভেজ করেন ২২ বলে ৩৬ রান, আর সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ৪২ রান।
এরপর শামীম হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়েন অভিষেক ম্যাচ খেলা আব্দুল গাফফার। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা। গাফফার ১১ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও হৃদয়ের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। ফলে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের। ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া। আগামী পরশু অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।