নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ
অনলাইন জুয়া ও মাদকের টাকা না পেয়ে ইভা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হাত বেঁধে শরীরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২০ জুন রাতে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামে এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ইভা আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামের ইউনুচ আলী মোল্লার মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শেখ বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের নোবিয়াল শেখের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র সাত-আট মাস আগে সোহেল শেখের সাথে ইভা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দরিদ্র বাবা নিজের গৃহপালিত গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে দুই ভরি স্বর্ণের গহনাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র উপহার দেন। তবে বিয়ের পর থেকেই ইভা জানতে পারেন তার স্বামী চরমভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই ইভার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল সোহেল। ইতোমধ্যে ইভাকে দেওয়া বিয়ের সব স্বর্ণালঙ্কার ও ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে জুয়ায় হেরেছে সে। সর্বশেষ গত ২০ জুন রাতে সোহেল আবারও ইভার কাছে জুয়া ও মাদকের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। ইভা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী সোহেল, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। মারধরের একপর্যায়ে সোহেল তার স্ত্রীর হাত বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় বাড়ির অন্য লোকজনের বাধায় ইভার শরীরে আগুন দিতে ব্যর্থ হয় তারা। পরদিন খবর পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবা ইউনুস আলী। তবে নির্যাতন এখানেই থামেনি; মেয়েকে নিয়ে আসার পর সোহেল দলবলসহ শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে ইভাকে আবারও মারধর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ইভাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা ইউনুস আলী মোল্লা বলেন, “বাড়ির বড় মেয়ে হওয়ার কারণে অনেক কষ্ট করে গরু-ছাগল বিক্রি করে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি জামাই মাদক ও জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জন্য আমার মেয়েটাকে ওরা শেষ করে দিল। এখন মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ। ও একটু সুস্থ হলেই আমি থানায় গিয়ে এই পাষণ্ডদের বিরুদ্ধে মামলা করব।” এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে তারা এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবেদন ও ছবি: নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ