
ঢাকা, ২৯ জুন: পাপেট, টেলিভিশন ও চিত্রকলায় বহুমাত্রিক অবদানের জন্য পরিচিত একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিসার হোসেইন। গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
চারুকলায় শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পেশাগত জীবনে মুস্তাফা মনোয়ার টেলিভিশন মাধ্যমকে বেছে নেন। তবে চিত্রকলা, নাট্যনির্দেশনা এবং শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি পাপেট শিল্পই ছিল তার অন্যতম প্রধান আগ্রহের ক্ষেত্র। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি পাপেট নিয়ে কাজ করে গেছেন এবং এ মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বহু শিল্পী ও অনুরাগী গড়ে তুলেছেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ‘রক্তকরবী’, ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর মতো নাটক এবং ‘নতুন কুঁড়ি’, **‘মনের কথা’**সহ জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিশুদের জন্য সহজে ছবি আঁকা শেখানোর অনুষ্ঠান এবং সৃজনশীল শিক্ষামূলক বিভিন্ন আয়োজনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অসাধারণ সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। ছবি আঁকা, সংগীত সম্পর্কে জ্ঞান এবং অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় তার দক্ষতা ছিল অনন্য। একটি দক্ষ দল গড়ে তুলে তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশনে বহু স্মরণীয় অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছেন।
চিত্রকলা, টেলিভিশন ও পাপেট শিল্প—এই তিন ক্ষেত্রেই মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।