, ,

, ,

হোম খবর

শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার ‘সেরা ডুবুরি’ সাদিকের মরদেহ

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/d75xob

নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিখোঁজ হওয়ার আট ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ‘সেরা ডুবুরি’ সাদিক হোসেন শুভর (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত সাদিক রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমরাকান্দি গ্রামের মো. আশরাফ আলী শেখের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। গত বছর সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ফায়ার সার্ভিস পদক অর্জন করেছিলেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে স্পিডবোটে ওঠেন সাদিকসহ তিনজন। এ সময় স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের তোড়ে ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান। সহকর্মীদের ধারণা, পানিতে পড়ার সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় আর উঠতে পারেননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা দীর্ঘ আট ঘণ্টা যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের আহাজারি ও তদন্তের দাবি ছেলের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ সাদিকের পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়ে মা বলেন, “আমার বুকের ধন গত বৃহস্পতিবার বাবার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। আগামী সপ্তাহে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে ডাকবে না।” পরিবারের পক্ষ থেকে সাদিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। তারা বলছেন, একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত দক্ষ ডুবুরি এভাবে নদীতে ডুবে মারা যাবেন, তা মেনে নেওয়া কঠিন। সাদিক শুধু একজন দক্ষ ডুবুরিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন চমৎকার ফুটবল খেলোয়াড়।

গোলরক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমীর চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও প্রতিভাবান ছেলে ছিল। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” শুক্রবার (আজ) ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গোয়ালন্দে আনা হয়। এরপর গোয়ালন্দ গেন্দু সরদার ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজের আগে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার নেতৃত্বে একদল চৌকস অগ্নিনির্বাপক কর্মী কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে একই স্থানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজ শেষে গোয়ালন্দ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এই মৃত্যুতে ফায়ার সার্ভিস পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিবেদন ও ছবি: নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন