
|নিউজ ডেস্ক, ঢাকা
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে শুক্রবার রাতের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে চার দিন আগে ঝিনাইদহ থেকে চারজন ভাড়াটে খুনি ঢাকায় আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪৫ বছর বয়সী যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অপর যুবদল কর্মী মনির হোসেন ও স্থানীয় সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার।
ঘটনার বিবরণ ও মূল তথ্য
- আসল লক্ষ্যবস্তু: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। নিহত পারভেজ মূলত তাঁর সাথেই অবস্থান করছিলেন।
- সম্ভাব্য কারণ: রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গড়ে ওঠা তীব্র দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
- পরিকল্পনা ও আক্রমণ: ভাড়াটে খুনিরা চার দিন পূর্বে ঢাকায় এসে মিরপুর ১০ নম্বরের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেয়। শুক্রবার রাতে বাবু ও তাঁর অনুসারীরা বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেয় হামলাকারীরা।
- হত্যাকাণ্ডের মুহূর্ত: দোকানের কাছে দুই অপরিচিত যুবককে দেখে পারভেজ পরিচয় জানতে চাইলে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পারভেজ একজনকে ধরতে গেলে কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাঁর বুকে গুলি চালানো হয়। হাফিজুল ও মনির এগিয়ে এলে তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি করা হয়। মাটিতে পড়ে গিয়ে হাফিজুল প্রাণে বাঁচলেও মনির গুলিবিদ্ধ হন।
গ্রেপ্তার ও আইনগত পদক্ষেপ
১. হামলাকারী আটক: ঘটনার পর স্থানীরা ধাওয়া দিয়ে চঞ্চল মোল্যা (৩৪) নামে এক হামলাকারীকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয়। ২. রিমান্ড মঞ্জুর: শনিবার চঞ্চলকে আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, বাকি আসামিদের অবস্থান ও অস্ত্রের উৎস জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ৩. মামলা দায়ের: কাফরুল থানায় মোট দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে:
- হত্যা মামলা: নিহত পারভেজের ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা করেন।
- অস্ত্র মামলা: কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার হালদার বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।
- মামলায় অভিযুক্ত অন্য তিন পলাতক আসামি হলেন—জিহাদ মোল্লা (৩৪), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ও হাসান (৩৫)।
দায়িত্বশীলদের বক্তব্য
“ঘটনায় জড়িত চঞ্চল মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
— সাইফুল ইসলাম, কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি), কাফরুল থানা
“তদন্তে যদি যুবদলের কোনো নেতার নাম বা সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
— সজ্জাদুল মিরাজ, সদস্যসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল