
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাটে টাকা-পয়সার লেনদেন ও তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে শরিফুল ইসলাম হীরা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে হত্যার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সকালে গোয়ালন্দ ঘাট থানার তোড়াই মোড় নামক স্থানে দুই বন্ধুর মধ্যে টাকা-পয়সা লেনদেন বা দেনা-পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুল ইসলাম তার সাথে থাকা ধারালো ছোরা বা চাকু দিয়ে শরিফুল ইসলাম হীরাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ইসলামকে তার স্ত্রী সামছুন নাহার মুক্তা ও পরিবারের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী সামছুন নাহার মুক্তার এজাহারের ভিত্তিতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন ও ছবি:
০৯/আগস্ট /২০২৬
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী