
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী জিয়া সরদারকে (৩৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। হত্যার পর তিন দিন ধরে ড্রামে লাশ লুকিয়ে রাখার পর, অবশিষ্ট মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) রাতে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়া সরদার ও আসমা আক্তারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। গত বছর জিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে শরীয়তপুর চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আসমাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান,
“আটকের পর আসমা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অকপটে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে নিহতের মাথাসহ হাড় এবং পদ্মা নদীর তীর থেকে খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।”
অভিযুক্ত আসমা আক্তার নিজের দোষ স্বীকার করে দাবি করেন, স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। ঘটনার রাতেও মারধরের একপর্যায়ে তিনি রাগের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। তবে আঘাতটি এতটা মারাত্মক হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।