
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম, তাদের তিন মেয়ে মিম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল।
পুলিশ জানায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে গত চার মাস ধরে ভাড়া থাকতেন ফোরকান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। বাকি চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
তদন্তে আরও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কিছু কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা প্রাথমিকভাবে কোনো মামলার নথি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বাসা থেকে মাদক সেবনের আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করতেন ফোরকান। তাদের ধারণা, মাদকাসক্ত অবস্থায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
স্বজন মনির হোসেন জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্যালক রসুলকে বাসায় ডেকে এনে হত্যা করা হয়। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, হত্যার পর অভিযুক্ত ফোরকান ফোনে একজনের কাছে ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহে কাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।