শুক্রবার, রাত ৮:৫৯, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, রাত ৮:৫৯, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

জুলাইয়ের ব্যাপারে হিসাব ক্লিয়ার

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/frx4ft

কাকন রেজা:
প্রিয়জন মুবাশ্বার হাসান সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমার হিসাব ক্লিয়ার। আমার রাজনৈতিক কিবলা জুলাই। জুলাই এবং জুলাই।’ তাকে কেউ ছবক দিতে যাবেন না আবার। একজন গুমের শিকার মানুষকে ছবক দেয়ার নৈতিকতা আছে কিনা সেটা আগে ভেবে দেখবেন। তারপর ভেবে দেখবেন মুবাশ্বারকে ছবক দেয়ার যোগ্যতা আপনার আছে কিনা।

ভাই মুবাশ্বার, একদম। আমাদের মত-পথ আলাদা থাকতে পারে কিন্তু সব পথের গন্তব্য এক। সেই গন্তব্য হলো জুলাই রেভ্যুলেশন। এর বাইরে বাংলাদেশপন্থীদের কোনো পরিচিতি নাই। সুতরাং আমরা মতের বিতর্ক করি মুখের ভাষায়। এই ভাষা যখন শারীরিক হয়ে উঠবে তখন আমরাও ফ্যাসিস্ট হওয়ার পথে পা বাড়াবো। তখন আমাদের বাধ্য হয়েই ফ্যাসিস্টের সাথে ঐক্য করতে হবে এবং ফ্যাসিজম লাভ করবে নবজন্ম। দুই হাজার মানুষ এই নবজন্মের জন্য প্রাণ দেয় নাই। ত্রিশ হাজার মানুষ এজন্য আহত হয় নাই। পাঁচশ’র উপর মানুষ এজন্য চোখ হারায় নাই।

এই যে আমরা ক্ষমতায়, এই যে আমরা বিরোধী দলে, এর কৃতিত্ব কিন্তু জুলাইয়ের। ছত্রিশে জুলাই না হলে এসব কিছুই থাকতো না। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, এর বাইরে কোনো কথা নাই, আলাপ নাই, বয়ান নাই। যারা এর বাইরে বয়ান তৈরি করবে, তাদের কিবলা দিল্লি। ঢাকা নয়। হিসাব পরিষ্কার।

দুই
ফ্যাসিজমের ফ্যান-ফলোয়ারগণ দেখলাম একটা কথা খুব ছড়ানোর চেষ্টা করছে যে, জুলাইয়ে জেনারেশন জেড তথা জেন-জি’দের নাকি ক্যাপ্টাগন নামের একটি ড্রাগ দেয়া হয়েছিল, ফলে তারা ছিলো ক্লান্তি ও ভয়হীন। ফ্যাসিস্টদের কয়টা প্রোপাগান্ডা পেইজ থেকে এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে। সাথে ছড়ানো হচ্ছে অ্যামেরিকার টাকায় জুলাই রেভ্যুলেশন সংগঠিত এবং সংঘটিত হয়েছে। পান্না নামক ‘ছিনিয়র সাংকবাদিক’কেও দেখলাম বসুন্ধরা গ্রুপের একটি মাধ্যমের টকশোতে এ বিষয়ে কথা বলতে। অবশ্য বিএনপি’র এমপি এবং বিপ্লবী মানুষ বাবুল ভাই পান্না সাহেবের লাগাম টেনেছেন। পান্না সাহেব জুলাই বিপ্লবীদের ‘সো-কল্ড’ বলেছিলেন। একে গালি দেয়া উচিত। কিন্তু শিক্ষা আর রুচিতে বাধে বলে দিলাম না। যা দেয়ার বাবুল ভাই-ই দিয়েছেন।

যাকগে আসি ড্রাগ ক্যাপ্টাগনের বিষয়ে। তারও আগে আসি বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত মাদক ইয়াবার কথায়। এই ড্রাগটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার বানিয়েছিলেন তার সৈনিকদের জন্য, যাতে তারা দীর্ঘসময় ক্লান্তিহীন যুদ্ধ করতে পারে। অর্থাৎ এটার অফিসিয়াল জনক হলো হিটলার, নাৎসীদের নেতা। সাতদিন পর্যন্ত না ঘুমিয়ে জেগে থাকতে পারবে সৈন্যরা এমন চিন্তায় ইয়াবা দেয়া হয়েছিল জার্মান সৈন্যদের। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল মারাত্মক। অনেক সৈন্যই যুদ্ধের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। আমাদের দেশেও যারা ইয়াবা খায়, তাদের অবস্থা তো আমাদের চোখের সামনেই, পুরাই বাতিল মাল। ক্যাপ্টাগনও তাই। দুটোর কাজের ধরণও তাই। পরিণতিও এক।

এই ক্যাপ্টাগনকেই ফ্যাসিজমের প্রোপাগান্ডা মেশিন, জুলাইয়ের নিয়ামক হিসেবে প্রচার করতে চাইছে। এই ছাগলগুলোকে বলি, ক্যাপ্টাগন খেলে সাতদিন ঘুম হয় না, ক্ষুধা থাকে না, অপ্রকৃতিস্থ থাকে। ছাগলগুলো কি শহিদ আনাসের চিঠি পড়েছে, ক্যাপ্টাগনের মতন ড্রাগ নেয়ার পর এমন চিঠি লেখা সম্ভব! আমাদের বাচ্চারা জুলাইয়ে আন্দেলন করেছে, ঘরে ফিরে ঘুমিয়েছে, খেয়েছে পরদিন আবার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আমাদের বাচ্চারা গ্রাফিতি এঁকেছে, ছাগলদের বলি ক্যাপ্টাগন খেয়ে যুদ্ধ করা যায়, গ্রাফিতি আঁকা যায় না। গান গাওয়া যায় না, কবিতা আবৃত্তি করা যায় না। আমাদের বাচ্চারা ছত্রিশ দিন আন্দোলন করেছে সেই আন্দোলনে যেমন প্রতিরোধ ছিল, তেমনি ছিল গ্রাফিতি, কবিতা, গান। এগুলো ক্যাপ্টাগনের কাজ নয়, হিসাব ক্লিয়ার।

পান্না’র মতন ‘ছিনিয়র সাংবাদিক’দের কথায় আসি। এরা মূলত লজ্জাহীন। দুই কানকাটা। এরা এখন পথের মধ্য দিয়েই যাবে। এরা মূলত ডগমাটিক। এদের আলাপে তর্ক থাকে বিতর্ক থাকে না। হযরত আলী (রা.) এর একটি কথা হুমায়ূন আহমেদ বলতেন, ‘তোমরা তাদের সাথে তর্ক করো না, তারা তোমাদের তাদের পর্যায়ে নামিয়ে আনবে এবং হারিয়ে দেবে’। সত্যি তাই, আপনি তাদের পর্যায়ে নামলে আপনার লজিক হারাবে, কারণ তারা লজিক্যাল না, লজিক হারালে আপনি হারবেন। লজিকহীনদের থামাতে হয় ধমকে। যেমন থামিয়েছেন বাবুল ভাই। তবে সর্বোত্তোম হলো, মাওলানা রুমির পথ ধরা। রুমি বলে গেছেন, ‘উপেক্ষার চেয়ে বড় অস্ত্র আর কিছু নেই’। সুতরাং পান্নাদের উপেক্ষা করি। যারা পান্নাদের উপেক্ষা না করে টকশোতে আনে, তাদের টকশোগুলোও উপেক্ষা করি।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন