
আমরা সবাই ভালো বাবা-মা হতে চাই। সন্তানের জন্য সর্বোত্তমটা করতে চাই। কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করি, যা তাদের কোমল মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
যখন আমরা বলি, “তুমি খুব জেদি”, তখন হয়তো মুহূর্তের রাগ থেকেই বলি। কিন্তু একটি শিশুর কাছে এই কথাগুলো ধীরে ধীরে তার নিজের পরিচয়ের অংশ হয়ে যেতে পারে। একইভাবে, যখন তার কষ্ট, রাগ বা মন খারাপকে গুরুত্ব দিই না, তখন সে শিখে যায় নিজের অনুভূতিগুলো চেপে রাখতে। আর যখন রাগ দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি বা তার কাছে বড়দের মতো পরিণত আচরণ আশা করি, তখন সে নিজেকে বোঝা ও গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারে না।
আমরা প্রায়ই ভাবি, কঠোরতা হয়তো তাকে দ্রুত ঠিক পথে আনবে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব অনেক সময় উল্টো হয়। শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায়, সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করে, আর ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
তাই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে খুব ছোট কিছু সচেতনতা থেকে। কথা বলার আগে এক মুহূর্ত ভেবে নেওয়া, তার অনুভূতিটা আগে বোঝার চেষ্টা করা, রাগের বদলে ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়ে তাকে পথ দেখানো—এসবই তাকে নিরাপদ ও মূল্যবান অনুভব করতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মনে রাখা, সে এখনো শিখছে, বেড়ে উঠছে, ভুল করবে, আবার সেই ভুল থেকেই শিখবে।
সন্তান গাছের মতো। জোর করে টেনে বড় করা যায় না। যত্ন, সময়, ভালোবাসা আর সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে সে নিজের গতিতেই সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।
আসুন, আজ থেকেই একটু একটু করে বদলাই, আরও সচেতন হই। কারণ আমাদের প্রতিটি কথা, প্রতিটি আচরণ এবং প্রতিটি প্রতিক্রিয়াই সন্তানের আগামী দিনের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক জগত গড়ে তোলে।
সমসুন নাহার : Youth Counselor & Social Welfare Organizer(ইউথ কাউন্সেলর এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজার)