
রফিক ইসলাম
আমি অর্থনীতির ছাত্র না। কাজেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং প্রস্তাবিত বাজেটের ফিসক্যাল পলিসি জানা আমার কাজ না। তবে বাজেট যাতে আমার দৈনন্দিন প্রয়োজনের উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সেটাই চাওয়া। সেদিক থেকে বর্তমান বাজেট (২০২৬-২৭) যা গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন সেটি অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অধিকতর জনবান্ধব মনে হয়েছে।
আমাদের মৈলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম খাদ্য,বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত ও নিরপদ করা না গেলে তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অর্থনীতি এবং বাজেট হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মূল চালিকাশক্তি ও বাস্তবায়ন রূপরেখা। একটি দেশের মানুষের এই চাহিদাগুলো কতটা পূরণ হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বাজেটে সরকার কোন খাতকে কতটুকু অগ্রাধিকার দিচ্ছে তার ওপর। দেশের ৫৫তম প্রস্তাবিত এই বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উভয় খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রেকর্ড বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা খাতকে দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার পকেট খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
মূলত, বাজেট ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতিগুলো পণ্যের ন্যায্য মূল্যের উপর সরাসরি সম্পর্কিত। একটি পণ্যের উৎপাদন খরচ কত হবে এবং বাজারে সেটি কত দামে বিক্রি হবে। সেটি নিশ্চিত করা গেলে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়। এতে একদিকে কৃষক যেমন উৎসাহ পাবে যাতে করে আমরা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের স্বপ্ন দেখতে পারি অন্যদিকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের নিশ্চয়তা তৈরি হবে যা ভোক্তা পর্যায়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে স্বস্তি দিবে।
বাজেটের কর ও শুল্ক নীতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি রোধ ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাহিদা ও জোগান- এর উপর সামঞ্জস্যপূর্ণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়েছে।
শিশু খাদ্য সহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কর হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা ও মজুদ বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়ানো, সুলভ মূল্যে চাল বিতরণ, চিকিৎসার খরচ কমাতে গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা সামগ্রীতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে- হার্টের স্টেন্ট, কিডনি ডায়ালিসিস ফিল্টার ও টিউব, চোখের লেন্স এবং ক্যান্সারের ওষুধ।
সরকার রাজস্ব আদায়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ কমানোকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর এই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ী পর্যায়ে খরচ কমে আসবে, যার সুফল সরাসরি সাধারণ ভোক্তারা পাবেন।
রফিক ইসলাম কবি, প্রাবন্ধিক