[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬৪, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/qumt6j

ছবি সংগৃহীত

কারাকাস, ২৫ জুন (রয়টার্স): ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুটি ভূমিকম্পেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। রাত নামার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের পাশে ভিড় জমায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা বলেন, “আমরা যখন নিচে নামছিলাম, তখন চারপাশের দৃশ্যটি যেন কোনো ভৌতিক চলচ্চিত্রের মতো মনে হচ্ছিল। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে হেঁটে বের হতে হয়েছে। আমি কেবল একটি পরিবারকে নিরাপদে বের হতে দেখেছি।”

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, লা গুয়াইরা এখন একটি বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সেখানে ১০ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন তথ্য ও আবেদন ছড়িয়ে পড়ছে।

সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ বলেন, “প্রচণ্ড শব্দে পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে। ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র ছিটকে পড়ে যাচ্ছিল। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল দেশটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দুর্যোগকালে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন