
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য বছরের পর বছর লড়েছেন, সহ্য করেছেন অসংখ্য ইনজুরি, অস্ত্রোপচার, সমালোচনা আর প্রত্যাবর্তনের কঠিন পথ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া হলো না ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই মহাতারকা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “Agora acabou” (এবার শেষ)। এর মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ১৬ বছরের দীর্ঘ ও গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির ঘোষণা দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের ফুটবলকে এক হাতে টেনেছেন নেইমার। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার অনন্য কীর্তি এখন তার দখলে। ২০১৩ সালে কনফেডারেশনস কাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক ফুটবল স্বর্ণপদক। তবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও অধরাই থেকে গেল কাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপা।
“সবাই ট্রফি জেতে না। কিন্তু কিছু খেলোয়াড় কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে নেন। নেইমার তাদেরই একজন।”
ইনজুরি তাকে বারবার থামিয়েছে। একের পর এক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ পুনর্বাসন আর সমালোচনার সঙ্গে লড়াই করেই ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। শরীর আর আগের মতো সাড়া না দিলেও কেবল দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন নিয়ে তিনি হাল ছাড়েননি।
কিন্তু নিয়তি যেন আবারও তার শেষ সুযোগটি কেড়ে নিল। চোটের কারণে টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেছেন বেঞ্চ থেকে নেমে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাথা নিচু করে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। তার চোখের জল যেন বলে দিচ্ছিল—এ কান্না শুধু একটি ম্যাচ হারার নয়, এ কান্না একটি জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের।
ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের সেলেসাও অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তার জাদুকরী ড্রিবলিং, গতি আর সৃজনশীলতা বেঁচে থাকবে এক অসমাপ্ত স্বপ্নের প্রতীক হয়ে—যার নাম বিশ্বকাপ। বিদায়, নেইমার!

প্রতিবেদন ও ছবি:
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ