[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম অপরাধ

নারায়ণগঞ্জে খুঁটিতে বেঁধে দুই তরুণকে গণপিটুনি, একজনের মৃত্যু; ভিডিও ভাইরাল

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/g86nhz

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে দুই তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জিসান (২৫) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে এবং অনিক নামের অপর এক তরুণ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে জিসান ও অনিককে তাঁদের বাসা থেকে ডেকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা এবং আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে জিসান গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে বাঁধা দুই তরুণকে কয়েকজন ব্যক্তি পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহত জিসানের বাবা ইউনুস মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেসহ দুই তরুণকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ করলেও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও ইমাম কাওসার হোসেনকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ওই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি স্থানীয় জনগণ ঘটিয়েছে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের সত্যতা বা প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত জিসান ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এর আগে এ ধরনের অভিযোগে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ বা মামলা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন