
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর জামতলা এলাকায় মো. ফারুক শেখ (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের ছোটভাইসহ তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন: ১. মো. বারেক শেখ (৪৪), পিতা: খালেক শেখ, সাং: কেউটিল, পৌর জামতলা, থানা: গোয়ালন্দঘাট, রাজবাড়ী। (তিনি নিহত ফারুক শেখের ছোটভাই)২. মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬), পিতা: ওয়াজেদ সরদার, সাং: হোসেন মন্ডলপাড়া, থানা: গোয়ালন্দঘাট, রাজবাড়ী। ৩. মো. রুবেল শেখ (৩০), পিতা: বাবু শেখ, সাং: হোসেন মন্ডলপাড়া, থানা: গোয়ালন্দঘাট, রাজবাড়ী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১:০০ টা থেকে দুপুর ১:৩০ টার মধ্যবর্তী সময়ে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা এলাকার মো. ফারুক শেখ (৪৮) (পিতা: খালেক শেখ) নিজ শয়নকক্ষে অজ্ঞাত ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে এবং লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে নিহতের পিতা জনাব মো. খালেক শেখের অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২১, তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) রুজু করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাজবাড়ী জনাব শাহিদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দ থানা পুলিশের একাধিক টিম যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত ফারুক শেখ ও তার ছোটভাই বারেক শেখ (৪৪) দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন। পারিবারিক সম্পত্তি, নিহত ফারুকের সংসারবিরাগী আচরণ, বহুনারীতে আসক্তি, অসামাজিক কাজকর্ম ও মায়ের জীবদ্দশায় পরিবারের বাঁধন ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কায় বারেক শেখ তাকে হত্যার সুযোগ খুঁজছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বারেক শেখ আগেই ২ টি ধারালো দা (স্থানীয় ভাষায় ‘ছোল’) কিনে নিজ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। একই চায়ের দোকানের কর্মচারী রুবেল শেখ (৩০) ও মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমকে (২৬) সে ভাড়াটিয়া হত্যাকারী হিসেবে নিযুক্ত করে। গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বসে তারা হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে। বারেক শেখ সাময়িক খরচ বাবদ রুবেল ও আলমকে নগদ ১,৭০০ টাকা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুর ১২:৩০ টার পর আলম ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে আসে। বারেক তাদের হাতে দুটি দা তুলে দিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ফারুকের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর আলম ও রুবেল শয়নকক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে উপর্যুপুরি কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যা শেষে ব্যবহৃত দা দুটি টয়লেটের পাশে ময়লার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা উপস্থিত লোকজনের সামনে সাবলীলভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। আসামিদের নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে রুবেল ও আলম ময়লার স্তূপের আড়াল থেকে নিজ হাতে রক্তাক্ত দা দুটি বের করে দেয়। এছাড়া আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটনকালে তাদের পরিহিত রক্তমাখা জিন্সপ্যান্ট ও টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রতিবেদন ও ছবি: ২৩/আগস্ট /২০২৬ নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী