
চারিদিকে এখন বর্ষার উন্মাদনা। আকাশ ভেঙে নামছে অঝোর ধারা, আর সেই ধারায় পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন এক নতুন রূপ ধারণ করেছে। মাঠ-ঘাট ছাপিয়ে থৈ-থৈ জলরাশি; প্রকৃতির এই সজল সজ্জায় মন যেন আজ কোনো সীমানা মানতে চাইছে না। নীল আকাশের বুকে ভেসে চলা ওই উড়ু-উড়ু ময়ূরপঙ্খী মেঘেদের সঙ্গী হয়ে আমার চেতনাও যেন পাড়ি জমাচ্ছে কোনো এক সুদূর অজানায়।

বাংলা বিভাগের ক্লাস শেষ করে যখন বের হলাম, তখনো বৃষ্টির সেই মাতন থামেনি। ঝিরিঝিরি হাওয়ার সাথে বৃষ্টির ছাঁট মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বুলিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু আমার জন্য অপেক্ষা করছিল এক পরম বিস্ময়। নিজের বিভাগের গণ্ডি পেরিয়ে বিবিএ বিভাগের একঝাঁক প্রাণোচ্ছল তরুণ-তরুণী আয়োজন করে বসেছে এক অকাল ‘মুড়ি উৎসব’-এর। বাইরের এই চঞ্চল ছাত্র-ছাত্রীদের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা আর নিখাদ আতিথেয়তা আমাকে সত্যিই অভিভূত করেছে। বর্ষার এই সিক্ত দুপুরে একমুঠো মচমচে মুড়ি আর আড্ডার সেই স্মৃতি আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় বহুকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে এই ছোট ছোট আনন্দগুলোই তো জীবনকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ,
বাংলা বিভাগ, পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়