[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম অপরাধ

রায়পুরার সংঘর্ষ: গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/cajqt7

ছবি সংগৃহীত

নরসিংদী, ১৭ জুন — নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম কাউসার আহমেদ (৩৭)। তিনি রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং শাহ আলমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২২) নামে এক তরুণ নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকে আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে কাউসার আহমেদও ছিলেন।

বুধবার দুপুরের দিকে জিৎরামপুর ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ নদীর তীরে ভেসে আসে। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বারেক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে ঘটনাটি রায়পুরা থানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় মরদেহটি রায়পুরা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, নিলক্ষার সংঘর্ষে নিখোঁজ কাউসার আহমেদের মরদেহ মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কয়েকজনের মৃত্যুর গুঞ্জন রয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধার ও তদন্তের আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

নিহতের স্ত্রী সুরভী আক্তারের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে কাউসার আহমেদকে প্রথমে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ধরে এনে আবার গুলি করে হত্যা করে এবং মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীতে নৌকা নিয়ে মরদেহের সন্ধান করছিলেন। বুধবার বিকেলে জিৎরামপুর এলাকায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাঁরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষের আগে বিরোধ নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে বুলবুল ও লতিফসহ ৮ থেকে ১০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে মরদেহ উদ্ধার বা নিশ্চিত তথ্য ছাড়া তাদের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ চলছিল এবং শুক্রবার আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন